কন্যাশ্রী প্রকল্প KANYASHREE PRAKALPA (West Bengal)

WEST BENGAL KANYASHREE PRAKALPA



কন্যাশ্রী প্রকল্প কী?

প্রহিবিশন অফ চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্ট - ২০০৬ অনুযায়ী ভারতবর্ষে মহিলা ও পুরুষের আইনসম্মত বিবাহের বয়স হলো যথাক্রমে ১৮ ও ২১ বছর। এই আইন বিগত কয়েক বছর ধরে বলবৎ থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। 

২০০৭-০৮ D.H.H.S - 3 - এর রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতবর্ষের মধ্যে বাল্য বিবাহের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের স্থান পঞ্চম। এখানে প্রতি দুই জন কন্যা সন্তানের মধ্যে একজন বাল্য বিবাহের বলি। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে, এমনকি কলকাতাতেও এক চতুর্থাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর বয়সের আগেই হয়।

বাল্য বিবাহ লিঙ্গ বৈষম্যের একটি রূপ। যার শিকার ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাইবেশি হয়। বাল্য বিবাহ নারী শরীরে ও মনে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল করে। ফলস্বরূপ পাচার বা শিশু শ্রমিক নিয়োগ ও শোষণের মতো অনাকাঙিক্ষত ঘটনা অহরহ ঘটে। বস্তুত পশ্চিমবঙ্গের যে সব জেলায় বাল্য বিবাহ বেশি ঘটে, সেই সব জেলায় নারী পাচারের ঘটনাও বেশি ঘটে।

বাল্য বিবাহ এবং স্কুলছুটের পাশাপাশি ঘটে চলছে।  যদিও ভারতবর্ষে সর্ব শিক্ষা শুরু হবার পর , প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি ও প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্ত প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চতর শিক্ষায় উত্তরণের হার আশানুরূপ নয়। উচ্চতর শিক্ষা খরচ সাপেক্ষ, তাই বেশির ভাগ দরিদ্র বাবা-মার কাছে মেয়ের উচ্চ শিক্ষায় অর্থ বিনিয়োগ অযৌক্তিক এবং তারা এই বয়সেই পরিবারের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মেয়ের বিয়ে দেয়। এই পদক্ষেপ ওই বিবাহিত মেয়েটির জীবনকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপন্ন করে । পরবর্তী কালে দেখা গেছে ওই মেয়েটিকে অর্থ উপার্জনে লিপ্ত হতে হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা কম থাকার জন্য তারা কর্মক্ষেত্রে যথাযথ নয় বলে বিবেচিত হয়। এতে তাদের সারা জীবন দারিদ্র্য ও নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতে হয়।

পি সি এম এ ২০০৬ চালু হবার পর বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইনের বিভিন্ন বার্তা সমাজের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য মহিলা, শিশু ও সমাজ কল্যাণ দপ্তর বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু এটা বোঝা যায় যে শুধুই আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক বার্তা দ্বারা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ভারতবর্ষে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের অবস্থানের ফলে এই আইনকে কার্যকর করা কঠিন। তাই এমন একটি পদক্ষেপ প্রয়োজন যা কন্যা শিশুকে বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবে, যার দ্বারা নারী তার আগামী জীবনের রূপরেখা নিজেই রচনা করতে পারবে। কন্যাশ্রী প্রকল্প এমনই এক অনুভূতির ফসল।


কন্যাশ্রী প্রকল্পের উদ্দেশ্য : 



কন্যাশ্রী প্রকল্প, শর্তাধীন টাকা স্থানান্তরের মাধ্যমে বিশেষত: অনগ্রসর পরিবারের মেয়েদের অবস্থা উন্নয়নের একটি পরিকল্পনা: তাদের অনুপ্রাণিত করা যাতে তারা দীর্ঘ শিক্ষার মধ্য দিয়ে নিজের সামাজিক মর্যাদা অর্জন করতে পারে। শর্তসাপেক্ষ নগদ হস্তান্তরের মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের কন্যাসন্তানের অবস্থার উন্নতি ঘটানো ও ভবিষ্যত সুগঠিত করা।

কন্যা সন্তানকে যথাযথ ও পরিপূর্ণভাবে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রথাগত শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সুশিক্ষিত করে সুষ্ঠু ও সম্মানজনক পেশায় প্রতিষ্ঠা করা ও যোগ্য সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করা।

অন্তত ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কন্যা সন্তানের বিবাহ বিলম্বিত করে, অপুষ্টি, মা ও শিশু মৃত্যু, নির্ধারিত শারীরিক পরিপূর্ণতার আগে গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক অসুবিধা দূর করা।

কন্যা সন্তানকে শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা করা কন্যাশ্রী প্রকল্পের উদ্দেশ্য নয়, কন্যা সন্তানের সম্মানজনক স্বাবলম্বনের পথ সুনিশ্চিত ও দৃঢ় করে তাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। এই কারণে কন্যাশ্রী মেয়েদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ করা হয় যাতে খরচের সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নিতে পারে।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতাভুক্ত কন্যাসন্তানেরমধ্যে সাংস্কৃতিক ও গঠনমূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন, কন্যাশ্রী সংঘ গড়া, সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত মহিলাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তৈরি করা ইত্যাদি গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে সমস্ত কন্যাসন্তানের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সামাজিক মর্যাদা বোধ ও মানসিক ক্ষমতায়নের সঠিক উন্মেষ ঘটানো।

শিক্ষার পরিবেশেথাকাকালীন মানুষের জ্ঞানের ও দক্ষতার পরিধির বিকাশ ঘটে এবং কালক্রমে তা আর্থিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার পথ প্রশস্ত করে। অন্তত ১৮ বছরের বয়সের পর বিবাহিত জীবনে কন্যাসন্তান প্রবেশ করলে, তা তার পরিনত জীবনের সুঠাম ভিত্তি রচনা করতে পারে। প্রতিটি কন্যাসন্তানের উপযুক্ত বয়স হবার পর বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করা সুনিশ্চিত হলে, একদিকে যেমন বাল্য বিবাহের কুসংস্কার থেকে সমাজ মুক্ত হতে পারবে, অন্যদিকে তেমনি নারীর সুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থ-সামাজিক মর্যাদা ও সর্বোপরি আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের রূপরেখা:

কন্যাশ্রীর মূল লক্ষ্য সহজ ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যযুক্ত। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো মেয়েদের স্কুলে পাঠানো ও যাদের বয়স ১৮ বছরের কম, তাদের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বিবাহ থেকে বিরত রাখা। এটি সামাজিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য প্রদান করেছে।

শর্তসাপেক্ষ নগদ হস্তান্তর প্রকল্প পৃথিবীর বহু দেশে শিশু ও ব্য়:সন্ধি বয়সীদের জীবনধারার মানোন্নয়ন ঘটাতে সমর্থ হয়েছে। এই বহুল স্বীকৃত সাফল্যকে সামনে রেখে কন্যাশ্রী প্রকল্প শর্তাধীন নগদ হস্তান্তরের মাধ্যমে কন্যা শিশুর বিদ্যালয় ভিত্তিক পঠনপাঠন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া ও অন্তত ১৮ বছরের আগে বিয়ে না হওয়াকে সুনিশ্চিত করতে চায়। এই শর্তাধীন নগদ হস্তান্তর দুটি ভাগে করা হয়-


* * প্রথমটি হলো বার্ষিক ৭৫০ টাকা বৃত্তি। 

এটি পাওয়ার যোগ্যতা নির্নায়ক শর্তগুলি হলো -
১) ছাত্রীর বয়স ১৩ বছরের বেশি ও ১৮ বছরের কম হতে হবে।

২) ছাত্রীকে অন্তত অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরতা হতে হবে।

৩) ছাত্রীর পারিবারিক বার্ষিক আয় অনধিক এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা হতে হবে।

৪) ছাত্রীকে অবিবাহিতা হতে হবে।

** দ্বিতীয়টি হলো এককালীন ২৫০০০ হাজার টাকা বৃত্তি:

এটি পাওয়ার যোগ্যতা নির্নায়ক শর্তগুলি হলো -

১) আবেদন করার দিনে ছাত্রীর বয়স ১৮ বছরের বেশি ও ১৯ বছরের কম হতে হবে।

২) ছাত্রীকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি, বৃত্তিমূলক, ক্রীড়াবিষয়ক ইত্যাদি যেকোনো বিষয়ে নিবন্ধীকৃত  প্রতিষ্ঠানের পাঠরতা হতে হবে।


এছাড়াও প্রথম বৃত্তি পাওয়ার অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।


*** কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে বৃত্তির যোগ্যতা নির্নায়ক শর্তগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী শিথিল করা হয়।
* বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু, বিচারাধীন আবাসিক কিশোরী ও অনাথ শিশু কন্যার ক্ষেত্রে পারিবারিক বার্ষিক আয় কোনো উর্দ্ধসীমা নেই।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা ১৩ বছর বয়সের পরই অষ্টম মানের থেকে নীচু শ্রেণীতে পাঠরতা হলেও অন্যান্য শর্তগুলি পূরণ হলে কন্যাশ্রীর এই অনুদানগুলির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

For more scholarships keep updated with www.engtab.blogspot.com

For Scholarship – related information, Madhyamik & HS Suggestions, Madhyamik & HS English notes, Short Questions, Grammar Practice, Writings, visit www.engtab.blogspot.com


Put your comment in the Comment Box below. Give your valuable opinion about our website. Like us in our Facebook Page to get more updates.


We are happy to serve you. We wish your success and bright future. 

2 comments:

  1. খুব ভালো লেখা ‌। অনেকের কাজে লাগবে।

    ReplyDelete
  2. ধন্যবাদ মূল্যবান comment এর জন্য।

    ReplyDelete

Powered by Blogger.